মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

৭ নভেম্বর সারা দেশে র‍্যালি করবে বিএনপি

প্রকাশিত - ২৬ অক্টোবর, ২০২৬   ০৪:২০ পিএম
webnews24
ছবি : সংগৃহীত

২৪ঘণ্টা অনলাইন : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালিসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানান দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি জানান, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন এবং বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতারা। এছাড়া আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।

কর্মসূচি সম্পর্কে রিজভী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র‍্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে এবং ছাত্রদল আয়োজন করবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনী।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, সম্ভাব্য ৬ নভেম্বর একটি আলোচনা সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়া গেলে ওই দিন সভা অনুষ্ঠিত হবে, অন্যথায় তিনি যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেদিনই সভা হবে।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনের চেতনা হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার চেতনা। ১৯৭৫ সালের আগের রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতেই ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাচিব বলেন, ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান যেমন সংকটময় সময়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তেমনি ৭ নভেম্বরের পর তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন। এরপর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে।

রিজভী উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বহু সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো আবার মুক্তভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ছাত্র-জনতার ‘জুলাই আন্দোলন’কেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেখানে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশ নেন; যার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়।

ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সব মতের অধিকার রক্ষায় এ দিনের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক দেশটির কার্যালয় ‘কান্তেই’তে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ, বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা, ছয়টি বিভাগীয় শহরে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক ও উড়াল সড়ক নির্মাণে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া বৈঠকে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বেসরকারি বিনিয়োগের আলোচনা, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।