২৪ঘণ্টা অনলাইন: দিনের বেলা রোদ চড়া হলেও, সকাল এবং রাতে বাতাসে থাকে শিরশিরে ভাব। এই মরসুমে গরম-ঠান্ডার তারতম্যে চট করে ঠান্ডা লেগে যায়। তা ছাড়া, ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়ার দাপটের জন্যও জ্বর, সর্দি-কাশি হয়। জ্বর হলেই গলা ব্যথা, গায়ে ব্যথা দোসর হয়। এমন সময়ে গরম খাবারে স্বস্তি মেলে। তবে ঘন ঘন চা-কফি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হতে পারে। এই সময়ে এমন খাবার বেছে নিন যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
স্যুপ
গলাব্যথা, সর্দি, কাশিতে গরম একবাটি স্যুপ অত্যন্ত আরামদায়ক। চিকেন স্যুপ, সব্জির স্যুপ, ডালের স্যুপ খেলে শুধু গলায় আরাম লাগে না, শরীরে পুষ্টি এবং তরলের ঘাটতিও মেটায়। এতে গাজর, বিন বা পালংশাক মিশিয়ে নিলে ভিটামিন এবং খনিজের মাত্রাও বেড়ে যায় বহুগুণ।
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন সি অত্যন্ত কার্যকরী। সর্দি-কাশির সময়ে পাতে রাখুন পেয়ারা, আমলকি, কমলালেবুর মতো ফল। ভিটামিন সি জাতীয় ফল খেলে নিমেষে কেউ সুস্থ হয়ে যাবেন না ঠিকই, কিন্তু ফলের পুষ্টিগুণ অসুখের মোকাবিলায় শরীরকে ভিতর থেকে শক্তি জোগাবে।
হেঁশেলের উপকরণ
ঠান্ডা লাগলে বা কাশি হলে মা-ঠাকুরমারা আদা দিয়ে চা খেতে বলেন। আদাকুচি মুখে রাখলেও গলা খুসখুসানি কমে। আদায় থাকা জিঞ্জেরল প্রদাহনাশক, তা গলা খুসখুসানি কমানোর পাশাপাশি আরাম দেয়। হলুদে থাকা কারকিউমনিও শরীরে রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে বলে অনেকে মনে করেন। সেই জন্য দুধে হলুদ মিশিয়ে খাওয়ার চল রয়েছে।
প্রোটিন
অসুস্থ হলে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতি এবং দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি। এই সময়ে খাদ্যতালিকায় রাখুন ডিম, মুসুর বা মুগ ডাল, সয়াবিন, ছানা, দই কিংবা হালকা করে রান্না করা মাছ বা মাংসের ঝোল। ঠান্ডা লাগলে অনেক সময়ে মুখে রুচি থাকে না। তাই একবারে বেশি না খেয়ে সারা দিনে অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার ভাগ করে খাওয়া ভাল।
পর্যাপ্ত তরল এবং জল
নাক বন্ধ বা হালকা জ্বর থাকলে শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ে। তাই নিয়ম করে সারা দিন জল খাওয়া জরুরি। জল ভাল না লাগলে ভেষজ চা, চিকেন স্যুপ বা চিকেন স্ট্যু খাওয়া যেতে পারে।
সহজপাচ্য, পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম—মরসুম বদলের সময়ে সর্দি-কাশি বা জ্বর থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করে। এই সব ঘরোয়া খাবার পুষ্টিকর। তবে খাবার খেলেই অসুখ সারবে, ভাবা ঠিক নয়। জ্বর না কমলে বা শ্বাসকষ্ট হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
