২৪ঘন্টা ডেস্ক: ২৪ঘন্টা অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে আট মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় রাজধানী দোহায় টানা তৃতীয় দিনের মতো বৈঠক করছেন ইরানের প্রতিনিধিরা। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দোহায় চলমান আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আলোচনার এমন উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সংঘাতের আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি।
অন্যদিকে ইরানও সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে। দেশটির হুঁশিয়ারি, নতুন করে আক্রমণ করা হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
৩১ অক্টোবর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর সামরিক প্রস্তুতি জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
তবে সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা বলছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার জানান, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানই তাঁর পছন্দের পথ।
এর আগে ৩০ অক্টোবর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরানে যান। পরদিন শনিবার আলোচনা দোহায় স্থানান্তর করা হয়। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই পুরো প্রক্রিয়া সমন্বয় করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে প্রস্তাবিত দুই দিনের পরিকল্পনা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরান কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘ আট মাসের এই সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় দোহায় চলমান আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতির কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
