শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩
অসুস্থ শরীর নিয়ে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন, তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি রাকিবুল ইসলাম। বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে এক জোড়া দুম্বা কিনে গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি খামার। সেই খামারই এখন তাকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

ভাগ্যহত রাকিবের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল দুম্বা পালন

প্রকাশিত - ০৫ নভেম্বর, ২০২৬   ১১:৩০ পিএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন: মহিষের খামার করে ভালোই চলছিল রাকিবের সংসার। কিন্তু ভাগ্য যেন পরিহাস করলো। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে গেল। বন্ধ হয়ে গেল দীর্ঘদিনের মহিষের খামার। অসুস্থ শরীর নিয়ে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন, তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি রাকিবুল ইসলাম। বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে এক জোড়া দুম্বা কিনে গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি খামার। সেই খামারই এখন তাকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ২ নম্বর বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেব নগর গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম (৩৬)। চাকরি কিংবা বিদেশে যাওয়ার পেছনে না ছুটে প্রায় ১০ বছর আগে মহিষ পালন শুরু করেছিলেন তিনি। মহিষ পালন ভালোই চলছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের মার্চে হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে বাঁ পাশ অবশ হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও আগের মতো পরিশ্রম করা সম্ভব হচ্ছিল না। এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় মহিষ পালন।

এ অবস্থায় তুলনামূলক কম পরিশ্রমে আয় করার বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন। এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে নাটোরের একটি দুম্বার খামারের সন্ধান পান। সেখানে গিয়ে খামার ব্যবস্থাপনা ও দুম্বা পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন। তারপরেই একটি দুম্বা ও একটি দুম্বী কিনে বাড়িতে শুরু করেন নতুন যাত্রা। রাকিবুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিলাম। মহিষ বিক্রির টাকা দিয়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলাম। সেই পুঁজি হারানোর ভয়ও ছিল। এক পরিচিত বড় ভাই নাটোরের একটি দুম্বার খামারের সন্ধান দেন। সেখানে গিয়ে খামারটি দেখি। কীভাবে পালন করতে হয়, সবকিছু বুঝে দুটি দুম্বা নিয়ে আসি। সেখান থেকেই শুরু। ২০২৪ সালের শুরুতে দুটি দুম্বা দিয়ে যাত্রা শুরু করে তার খামারে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি দুম্বা রয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়টি বড় দুম্বা বিক্রি করেছেন ১২ লাখ টাকায়। প্রতিটি বাচ্চা দুম্বার সম্ভাব্য বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। আর পূর্ণবয়স্ক দুম্বা বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন লাখ টাকায়।

রাকিবুল জানান, দুম্বা পালনের খরচ তুলনামূলকভাবে কম। দেশি গবাদিপশুর মতো দুম্বাও কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি, ছোলাসহ সব ধরনের খাবার খায়। খাবারের জন্য আলাদা বড় আয়োজন করতে হয় না। পুষ্টির জন্য মাঝে মধ্যে ভিটামিন দেওয়া হয়। দুম্বা প্রতিবছর দুবার বাচ্চা দেয়। বাচ্চাগুলো ঘাস খাওয়ার উপযোগী হলেই প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়। বড় দুম্বার দাম দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তিনি ইতোমধ্যেই ছয়টি বড় দুম্বা ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে খামারে থাকা ১৫টি দুম্বার মধ্যে তিনটি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাচ্চা দেবে। বাচ্চা দেওয়ার পরও মা দুম্বার দুধ সংগ্রহ করা যায়।

খামারের পরিচর্যাকারী সুজন হাসান বলেন, দেশি ছাগল ও ভেড়া যে খাবার খায়, সেগুলোই দুম্বাকে দেওয়া হয়। খুব বেশি খাবার লাগে না। সকালে ঘরের খাবার দেওয়ার পর বাইরে ঘাস খেতে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিকেলে পানি ও সামান্য আনুষঙ্গিক খাবার দিলেই চলে। মাসে দুইবার গোসল করাতে হয়। পাশাপাশি খামারের ঘর পরিষ্কার রাখতে হয়।

রাকিবের প্রতিবেশী মাওলানা ইমরান হাসান বলেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেলেও দমে যাননি রাকিবুল। দুম্বার খামার করে নিজের উপার্জনের পথ তৈরি করেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, মনোবল ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, স্বল্প পরিসরে ঘরোয়া পরিবেশে দুম্বা পালন করে লাভবান হওয়া সম্ভব। রাকিবুলের খামার তার একটি দৃষ্টান্ত। বেকার তরুণ ও উদ্যোক্তারা বিদেশে যাওয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় না করে দেশে বিনিয়োগ করে এ ধরনের খামার গড়ে তুলতে পারেন। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনায় দুম্বা পালন লাভজনক হতে পারে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
উদ্ভাবিত এ জাতটির জীবনকাল প্রায় ১১৫ দিন। লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের অলবণাক্ত অঞ্চলেও এটি চাষ করা সম্ভব। এর ফলে রোপা আমন কেটে নেওয়ার পর একই জমিতে সরিষা কিংবা সূর্যমুখীর মতো রবি ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হবে।গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোপা আমন মৌসুমে ১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এর বীজ বপন করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাস। তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের প্রাচীনতম পেশা এই জুম চাষ। তাই তাদের জুমিয়া বলা হয়। যুগ যুগ ধরে পাহাড়িরা সনাতন পদ্ধতিতে জুম চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন-উভয় মৌসুমেই বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি আবাদ করেন তিনি। তার জমিতে উৎপাদিত সবজির মধ্যে রয়েছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, করলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা এবং বিভিন্ন রকমের শাক। উৎপাদিত এসব পণ্যের মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।
চলতি মৌসুমে প্রায় কোটি টাকার শীতকালীন সবজির চারা বিক্রি হবে
ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে