২৪ঘণ্টা অনলাইন : পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর পর রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। সরকারি ও বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকারখানায় উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে, যা নগরজীবনকে আবারও আগের ছন্দে ফিরিয়ে আনছে।
ঈদের ছুটির সময় ফাঁকা থাকা রাজধানীর সড়কগুলোতে এখন আবারও দেখা যাচ্ছে যানবাহনের চাপ। অফিস সময়ের শুরু ও শেষে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট, যা কর্মজীবী মানুষের জন্য নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যারা গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরেছেন, তাদের অনেকেই দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি নিয়েই কাজে যোগ দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ব্যবসা-বাণিজ্যেও ফিরেছে স্বাভাবিক গতি। ঈদের আগে বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও এখন সেখানে তুলনামূলক স্বস্তি বিরাজ করছে। তবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে লেনদেন আবারও বাড়তে শুরু করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ঈদের ছুটির কারণে জমে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে, ফলে কর্মীদের ওপর কাজের চাপও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
শিল্পকারখানাগুলোতেও উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে সময়মতো অর্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটির পরপরই উৎপাদন সচল রাখা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটির পর হঠাৎ কর্মব্যস্ততায় ফিরে আসা অনেকের জন্য মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে কাজের গতি বাড়ানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপনের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া উচিত।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ঈদের আনন্দ শেষে দেশের মানুষ আবারও ফিরে এসেছে তাদের দৈনন্দিন কর্মচক্রে। নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হলেও ব্যস্ততা ও চাপ—দুটোই এখন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
