শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

সমুদ্রে এক বছরে ৯০০ রোহিঙ্গা নিহত বা নিখোঁজ

প্রকাশিত - ১৮ এপ্রিল, ২০২৬   ১১:৫৮ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে অভিবাসনের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।

জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র বাবার বালোচ জানান, চলতি বছরে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনের একজন নিখোঁজ বা মৃত—যা বিশ্বে প্রধান সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

ইউএনএইচসিআর বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে যাত্রীদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। ২০২৬ সালেও একই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক এই যাত্রায় পাড়ি দিয়েছেন।

গত ২৬ মার্চ আন্দামান সাগরে বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। এতে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৯ জন জীবিত উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও মনোসামাজিক সহায়তা দিচ্ছে ইউএনএইচসিআর।

মানব পাচার, শোষণ ও মৃত্যুঝুঁকি সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা এই যাত্রা অব্যাহত রাখছেন। সাধারণত কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকাগুলো ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়।

অধিকাংশ রোহিঙ্গা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ পেলে মিয়ানমারে ফিরতে চান। তবে চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও নাগরিকত্ব সংকট তাদের সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে তহবিল সংকট, ক্যাম্পে অস্থিরতা এবং শিক্ষা ও জীবিকার অভাব তাদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেতে বাধ্য করছে।

ইউএনএইচসিআর রাষ্ট্রগুলোকে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ মোকাবিলা, নিরাপদ ও বৈধ পথ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে আশ্রিত। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) এখন পর্যন্ত মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর জরুরি প্রয়োজনের ইঙ্গিত দেয়।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন