শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

মায়ানমার সীমান্তে বিস্ফোরণ নিহত ৩

প্রকাশিত - ২৫ মে, ২০২৬   ১০:৫৬ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিহত হলেন তিন জন। পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে  ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি এবং মায়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ৪২ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায়। মৃতরা সকলেই বাংলাদেশের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকার বাসিন্দা। সেখানে একটি কলাবাগানে কাজ করছিলেন তাঁরা। সেই সময়েই ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মনে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে মায়ানমারের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে আরাকান আর্মি রাখাইনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তার পর থেকেই মায়ানমারের রাখাইন সংলগ্ন সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনে প্রায় সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।

রবিবারের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অক্যমং তংচংগ্যা (৪০), চিক্ষ্যং চাকমা (৩৪) এবং চোপোচিং চাকমা (৩২)-র। তাঁরা সকলেই ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, প্রথমে নিহত হন অক্যমং। তাঁকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময়ে ফের বিস্ফোরণ হয়। তাতেই অন্য দু'জনের মৃত্যু হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার নির্বাহী আধিকারিক এনামুল হাসান জানিয়েছেন, তুমব্রু নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ৪২ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় কলাবাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন ওই তিন ব্যক্তি। তখনই সেখানে এই বিস্ফোরণ হয়। পুলিশ ও বিজিবি বিষয়টি দেখছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রামুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল আলম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরেই সেখানে যান উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। সেখানেই তিন জনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে মৃতদের কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ উড়ে গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

ঘুমধুম ইউনিয়নের প্রাক্তন সদস্য বাবুলকান্তি চাকমা জানিয়েছেন, গত বছরও বাগানের কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। এখনও তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেখানে কাজ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে দু'টি পা হারিয়েছেন এক মহিলা। এ বার তিনজনের মৃত্যুতে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্তে আরকান আর্মির পুঁতে রাখা শক্তিশালী মাইনের বিস্ফোরণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তবে একটি সূত্রের দাবি, নিহতরা চোরাই পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদকদ্রব্য আনতে গিয়ে সীমান্ত পার হয়ে আসার সময় মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়েন তাঁরা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন