শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

মহব্বতপুরে বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজির প্রদর্শনী

প্রকাশিত - ২৯ মে, ২০২৬   ০৪:০১ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন :  দিনাজপুর সদর উপজেলার পল্লীতে রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ পদ্ধতি ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই বিশেষ এক পদ্ধতিতে জৈব সারের ব্যবহার এবং পোকা দমনে প্রয়োগ করা হচ্ছে ফেরোমন ফাঁদ। এতে স্বল্প শ্রম, কম খরচ করে দ্বিগুণ সবজির ফসল উৎপাদনে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এছাড়া বাজারে এ ধরণের বিষমুক্ত সবজি পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন ক্রেতারা।

এমন বিষমুক্ত সবজি চাষে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন জেলার সদর উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা। কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি চাষে বাস্তবে রূপ দিয়েছে দিনাজপুর বেসরকারি সাহায্য সংস্থা- মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র-এমবিএসকে কৃষি শাখা। এ ধরনের কৃষি কাজে কৃষকদের মাঠে সাফল্য অর্জন করতে  সহযোগিতা করেছেন, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফ।

এমবিএসকে কৃষি শাখার কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাইমুর রহমান জানান, দিনাজপুর সদর উপজেলার কৃষকদের নিরাপদ সবজি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ধরণের নিরাপদ সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৃষক এবং ভোক্তা উভয়ের নিকট। নিরাপদ উচ্চ মূল্যের সবজি চাষের নানা পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকরা সফলতা অর্জনে অধিক মূল্যে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছে। কৃষকরা এ পদ্ধতি ব্যবহারে জমিতে অর্জিত সবজির ভাল ফলন পাচ্ছেন। বাজারে আগত ক্রেতারা পাচ্ছেন বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি। এখন বিষমুক্ত চাষ করা সবজির চাহিদা ভোক্তাদের কাছে অনেকটাই চাহিদা বাড়ছে।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে জেলার সদর উপজেলার ৯নং আস্করপুর ইউনিয়নের নুনিয়াগাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা নিরাপদ ও উন্নত মানের বিষমুক্ত সবজি আবাদে ব্যবহার করেছেন নতুন এসব পদ্ধতি। করলা, পটল, চিচিঙ্গা, কায়তা, মরিচ, বেগুন, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি ফসলের আবাদ মাঠজুড়ে অত্যন্ত পরিপাটি এবং ফসলের ক্ষেতগুলোতে বসানো হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ। এতে দমন করা হচ্ছে ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকার উপদ্রব। জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব সার ও নিমের রস।

কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা মো. জুবায়ের রনি জানান, ক্ষেতে সার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার ও নিমের রস। এরফলে ওই জমিতে সার প্রয়োগ কম করতে হয়। সেচের অপচয় হয় না এবং ক্ষতিকর পোকা আক্রমণ করতে পারে না। সবজি ক্ষেতগুলোতে বসানো হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ। এতে ছত্রাক কিংবা বিভিন্ন রোগের আক্রমণ কম হয়। সর্বোপরি মান-সম্পন্ন ও ভাল ফলন উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তাই কৃষকদের উৎসাহিত করে এসব পদ্ধতি ব্যবহারে সবজি চাষ করানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসস’কে বলেন, কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা, রাসানিক সার ও বিষমুক্ত সবজি চাষে জেলার বেশ কয়টি উপজেলায় কৃষকদের নিয়ে কাজ করছেন। তিনি এসব সবজির ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তাদের কৃষি ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতার জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন