শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

লালমনিরহাট যেনো এক ভুট্টার রাজ্য

প্রকাশিত - ২৯ মে, ২০২৬   ০৪:১৮ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : জেলার কৃষি অর্থনীতিতে ক্রমশ: জায়গা করে নিচ্ছে দানা জাতীয় শস্য ভুট্টা। অর্থকরী ফসল হিসেবে বাজারে দাপট বাড়ছে ভুট্টার। কম খরচে বেশি লাভ, কম সেচ ও সারাবছর স্থিতিশীল বাজার চাহিদার কারণে উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটেও ভুট্টা চাষ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম হওয়ায় লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলা ও তিস্তার চরাঞ্চলে এর আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে। একসময় পশুখাদ্য হিসেবেই ভুট্টার চাষ হতো। মানবদেহের জন্য উপকারী শস্যদানা হিসেবে সম্প্রতি এর কদর বেড়েছে। এখন ভুট্টা লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। হাঁস-মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভুট্টাজাত পণ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ায় দেশে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর লালমনিরহাট জেলায় ৩০ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শে ফলন ভালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টা মাড়াই মৌসুম চলছে। কৃষকেরা ভুট্টা উত্তোলন, মাড়াই ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় হাট-বাজারেও ভুট্টা আসতে শুরু করেছে। জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজারের বর্তমানে প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ৬০ টাকায় কেনা হচ্ছে। আগামীতে ভুট্টার দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভুট্টা ব্যবসায়ী রাজু মহাজন বলেন, বাজারে ভুট্টার সরবরাহ ও বেচাকেনা বেড়েছে। ক্ষেত থেকে তোলা কাঁচা ভুট্টা প্রতি মণ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শুকনো ভুট্টা ১ হাজার ৪০ থেকে ১ হাজার ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভুট্টা চাষে খরচ কম এবং গাছের প্রায় সব অংশই ব্যবহারযোগ্য । এর পাতা পশুখাদ্য ও ডাঁটা-মোচা জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। 

কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের কৃষক সোলেমান আলী বাসসকে বলেন, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। নিজেই জমির কাজ সম্পন্ন করলে খরচ আরও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি জানান, ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৬ মণ ভুট্টা উৎপাদন করা যায়। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী খরচ বাদে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, ভুট্টা একটি লাভজনক ফসল। এটি স্বাস্থ্যকরও। বিকল্প ফসল হিসেবে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন জানান, কৃষকদের বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করতে নিয়মিত মনিটরিং ও প্রণোদনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সড়ক নয়, যেন ধান-ভুট্টার চাতাল

২৪ঘণ্টা অনলাইন : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া-রংপুর মহাসড়কের বিশাল অংশ এখন কৃষকদের ধান ও ভুট্টা মাড়াইয়ের চাতালে পরিণত হয়েছে। পুরো মহাসড়কজুড়ে খড় ও ভুট্টা শুকানোর হিড়িক চলায় যানচলাচল হয়ে পড়েছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে গত এক সপ্তাহে অন্তত নয়টি দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ী থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে খড়ের পালা দেওয়া হয়েছে। দলদলিয়া ডাঙ্গাপাড়া, মহেষপুর, তেঁতুলিয়া, চিলাপাড়া, ভাগলপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের কৃষকেরা মহাসড়কের ওপরই যান্ত্রিক মেশিন দিয়ে ধান ও ভুট্টা মাড়াই করছেন। মাড়াই শেষে খড় ও ধান সড়কেই শুকানো হচ্ছে, যার ফলে মূল সড়ক সংকুচিত হয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর মে-জুন মৌসুমে এই মহাসড়কটি কৃষকদের দখলে চলে যায়। গত বছর এই সময়ে এই ১৫ কিলোমিটার এলাকায় দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি মাসেও দুর্ঘটনার ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত ৭ মে মহেষপুর চৌরাস্তা মোড়ে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ এবং ৯ মে আয়শার মোড় এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শরিফুল ইসলাম নামে এক চালকের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি সড়কে ভুট্টা শুকানোর সময় নছিমনের ধাক্কায় এক শিশুরও প্রাণহানি ঘটেছে।

জিয়ার মোড় এলাকার কৃষক নূরুল ইসলাম বলেন, বাড়ির সামনে এখন আর আগের মতো ফাঁকা জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কেই ধান শুকাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, আমরা কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। রাস্তা দখল করে পথচারীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।

দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আমানউল্লাহ আমান জানান, বারংবার নিষেধ করা সত্ত্বেও কেউ তা মানছেন না। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান আশ্বস্ত করেছেন যে, বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন