২৪ঘণ্টা অনলাইন : কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ১৫ কোটি এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া।
জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ১৫ কোটি ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে যে অভিযোগ করেছেন, তা বিধি মোতাবেক দুই উপজেলার উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেছেন, “আগের যে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের একটি চরিত্র ছিল। তারা সমন্বয়ের নামে লুটপাট করেছে। আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তারা চেয়েছিলেন যে, বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।”
৩০ মে দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। মোস্তাক মিয়া বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিকের পদে রয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্র এবং হাসনাত আবদুল্লাহ দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের পাশাপাশি কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের টাকা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি ধরেন তার ব্যক্তিগত সহকারী শ্যামল দেবনাথ। তিনি জানান, মোস্তাক মিয়া একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত।
শ্যামল দেবনাথের কাছে জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে কল্যাণমূলক বাজেট থেকে অন্যান্য উপজেলাগুলোর তুলনায় আসিফ মাহমুদের মুরাদনগর এবং হাসনাত আবদুল্লাহর দেবিদ্বারের জন্য বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। যা অন্য উপজেলাগুলোর সঙ্গে বৈষম্য হয়েছে। স্যার (প্রশাসক মোস্তাক মিয়া) আসলে সেটি বুঝাতে চেয়েছেন।”
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ওই বাজেটের টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান শ্যামল দেবনাথ। তবে তখন প্রতি উপজেলার জন্য কত বাজেট ছিল কিংবা কোন তারিখে, কোন উন্নয়ন কাজের জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
ওই আলোচনা সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া আরও বলেন, “আজ বাংলাদেশ সরকার আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী, তিনি এই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ধ্বংস হওয়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য তারেক রহমান কাজ করছেন। তার কাঁধে দায়িত্বে পড়েছে- যেই অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছিল, এটাকে পুনরুদ্ধারের জন্য। সেটা নিয়ে উনি কাজ করছেন।”
