শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারে শ্রমবাজারর

প্রকাশিত - ০৩ জুন, ২০২৬   ১০:৩৫ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী জুনে দেশটি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২১ থেকে ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফরের সম্ভাব্য সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের কর্মসূচি রয়েছে। তিনি মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীন যাবেন নাকি ঢাকায় ফিরে বেইজিং সফরে যাবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশ মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের জন্য বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বার্তা দিচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে জনশক্তি রপ্তানি ও অভিবাসন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মে মাস থেকে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমবাজার শিগগিরই খুলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আগামী ১০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরে নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাজারটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা শুরু করে। এ বছরের এপ্রিলে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

তবে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনার পাশাপাশি পুরোনো সিন্ডিকেট ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকে সংশোধন না আনলে কর্মী নিয়োগে আবারও সীমিতসংখ্যক এজেন্সির আধিপত্য তৈরি হতে পারে।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, আগের চুক্তির কাঠামো বহাল থাকলে সিন্ডিকেটের সুযোগ থেকে যাবে। অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।

বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে সক্ষম বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চেয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৪২৩টি লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে পাঠিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে নতুন করে চুক্তির দুর্বলতাগুলো পর্যালোচনা করে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

কুয়ালালামপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, কৃষি, হালাল শিল্প, রোহিঙ্গা সংকট, সুনীল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন