২৪ঘণ্ট অনলাইন : হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বোরো ফসলের ক্ষতি এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি উদ্ভাবন করেছে নতুন উচ্চফলনশীল ধানের জাত ব্রি ধান-১১৮। এই জাতের ধান চাষ করলে প্রচলিত সময়ের তুলনায় প্রায় দুই মাস আগে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে হাওড়াঞ্চলের কৃষকরা ফসলহানির ঝুঁকিতে থাকেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জসহ সাত জেলার হাওড়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ৪৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ব্রির সিনিয়র সায়েন্টিফিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া জানান, ব্রি ধান-১১৮ অত্যন্ত শীতসহনশীল একটি জাত। কার্তিক মাসে, অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে এই ধান রোপণ করা যায়। ফলে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ধান পেকে যায় এবং কৃষক নিরাপদে ফসল ঘরে তুলতে পারেন। তিনি বলেন, “হাওড়াঞ্চলের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন। আগাম ফলন হওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।”
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উপপরিচালক হুমায়ূন কবীর জানান, নতুন জাতের বীজ দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মৌসুম থেকেই হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ব্রি ধান-১১৮-এর বীজ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ মনে করেন, নতুন এই ধান হাওড়বাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে। তাঁর মতে, আগাম ফলনশীল জাতটি হাওড়াঞ্চলের কৃষিতে স্থিতিশীলতা আনবে এবং ফসলহানির আশঙ্কা অনেকটাই কমাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে চলতি মৌসুম পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে হাওড়াঞ্চলে হাজার কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছে। কৃষিবিদদের আশা, ব্রি ধান-১১৮-এর সম্প্রসারণ হাওড়ের কৃষকদের সেই দীর্ঘদিনের শঙ্কা দূর করে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
