২৪ঘন্টা অনলাইন: নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অপরাধচিত্র নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় এবং এতে তাদের নিজস্ব কোনো তদন্ত থাকে না।
৮ জুন সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পেপার কাটিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তাদের নিজস্ব কোনো তদন্ত নেই। তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। দেশের প্রকৃত অপরাধ পরিস্থিতি জানতে হলে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
গত ৭ জুন প্রকাশিত টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং ২০৯ জন নারী ও শিশু ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমার সামনে টিআইবির রিপোর্টটি নেই। তবে আমরা নিয়মিত মাসভিত্তিক অপরাধ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করি। ডাকাতি, হত্যা, খুন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য সেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকে। সম্প্রতি পাওয়া একটি প্রতিবেদনে দেখেছি, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমান সময়ে অপরাধের হার অনেক কমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।”
তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। তবে বাস্তবতা যাচাই ছাড়া কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত তদন্ত ও সফল দায়িত্ব পালনের জন্য ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার এবং একটি করে সনদ প্রদান করা হয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন রামিসা হত্যা মামলার তদন্তে যুক্ত পুলিশ সদস্য, দৌলতদিয়া ঘাটে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণরক্ষায় ভূমিকা রাখা সদস্য এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কিশোরী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা।
