শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

ইন্টার্নদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম মেডিকেলে সেবায় ধীরগতি

প্রকাশিত - ০৯ জুন, ২০২৬   ১০:১১ এএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি এই হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

৭ জুন সকাল থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতির প্রভাব ৮ জুন স্পষ্টভাবে দেখা গেছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম, রোগী পর্যবেক্ষণ এবং নতুন রোগী ভর্তির কাজে ধীরগতি দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেবা নিতে আসা হাজারো মানুষ।

৮ জুন সন্ধ্যায় হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের সব শয্যা রোগীতে পূর্ণ। পাশাপাশি ফ্লোরেও অন্তত ৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। তবে চিকিৎসকদের কক্ষ অনেক সময় ফাঁকা ছিল বলে অভিযোগ করেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশ প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের নিয়মিত ফলো-আপ, চিকিৎসকের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমন্বয় এবং জরুরি রোগীদের প্রাথমিক মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কক্সবাজার থেকে আসা এক রোগীর স্বজন জানান, জরুরি বিভাগ থেকে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানোর পরও চিকিৎসকের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা হাসপাতালের সামনের সারির কর্মী হিসেবে রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতে সেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক।

বিশেষ করে চমেকের মতো ব্যস্ত হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কর্মবিরতির কারণে সিনিয়র চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক ডা. ইরফানুর রহমান জানান, প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বৈঠকের ফলাফল না আসা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দাবিগুলো দ্রুত সমাধান না হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রোগী ও স্বজনরা।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন