শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

কোস্ট গার্ডের নজরদারিতে সুন্দরবনে স্বস্তি

প্রকাশিত - ১৩ জুন, ২০২৬   ১১:৫৯ পিএম
webnews24

‎ম ম রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট : ‎সুন্দরবনের উপকূলীয় জনপদে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের ধারাবাহিক ও কার্যকর অভিযানের ফলে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমেছে। শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, বনদস্যু দমন এবং মোংলা বন্দরের নৌপথ সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সুন্দরবনকে আরও নিরাপদ করতে সরকার ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এসব অভিযানে কোস্ট গার্ড ৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। দস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪১ জন বনজীবীকে, যারা এখন নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন।

কোস্ট গার্ডের লাগাতার অভিযানের মুখে কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার তার সহযোগীদের নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। এটি সুন্দরবন এলাকায় অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে কোস্ট গার্ডের কঠোর অবস্থানের কারণে বনদস্যু ও অপরাধী চক্রগুলোও মরিয়া হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের নতুন স্টেশন স্থাপনের পর তাদের রসদ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এরই জেরে গত ১১ জুন জয়মনির ঘোল স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ডের কয়েকজন সদস্য আহত হন।

স্থানীয় বনজীবী ও সাধারণ মানুষের মতে, দস্যুদের আধিপত্য হারানোর ক্ষোভ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের আশঙ্কা, কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি দুর্বল হলে আবারও সুন্দরবনের কিছু অংশ দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোনো হামলা বা অপপ্রচার বাহিনীর মনোবল ভাঙতে পারবে না। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদের প্রজনন নিশ্চিত করতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধ এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা ও বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকল রুট সচল রাখতেও বাহিনীটি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির ব্যবহার করে উপকূলীয় সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই লড়াই শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জয়মনির ঘোল স্টেশনে হামলার ঘটনা একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সুযোগও তৈরি করেছে।

স্থানীয় মানুষের নিরাপদ চলাচল এবং বনজীবীদের জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ বজায় রাখতে কোস্ট গার্ডের এই নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে সুন্দরবন আরও নিরাপদ হবে এবং দেশের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
২৪ঘণ্টা অনলাইন : ‎মোংলায় এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রায় দুই মাস পর দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইকরামুল শেখ (৪০) ও মীর আলী (৪৮)। পুলিশের...