শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজারই মূল এজেন্ডা

প্রকাশিত - ১৭ জুন, ২০২৬   ১২:০৮ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১ ও ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রমবাজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। দেশটিতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় কর্মসংস্থান, ভিসা জটিলতা, অনথিভুক্ত শ্রমিকদের সমস্যা এবং কনস্যুলার সেবার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, হালাল খাদ্য, উচ্চশিক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সফরটি সময়ের দিক থেকে সংক্ষিপ্ত হলেও এর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সফরকালে মালয়েশিয়ার কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রমবাজার খোলার আশায় বাংলাদেশ
২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কার্যত বন্ধ রয়েছে। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হলেও বাজারটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একাধিকবার মালয়েশিয়া সফর করেছেন। সরকারের আশা, প্রধানমন্ত্রীর সফর শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকও সম্প্রতি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তবে শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, অতীতের বিতর্কিত প্রক্রিয়া বহাল থাকলে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আবারও অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণকারী রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চেয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা দেশটির কাছে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে নতুন কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি হাজারো কর্মপ্রত্যাশী বাংলাদেশির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার পথ সুগম করবে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন