২৪ঘণ্টা অনলাইন: জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, পর্দা বিতর্ক থেকে শুরু করে ঋণখেলাপি, মুতা বিয়ে ও ধর্মীয় নেতা মামুনুল হককে ঘিরে আলোচনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে অধিবেশন কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
১৮ জুন সংসদের ১০ম দিনের বাজেট আলোচনায় মাইক্রোওভেন ও ওয়াশিং মেশিন বরাদ্দ এবং সংসদ সদস্যদের আবাসন সুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা ঋণখেলাপি প্রসঙ্গ, রাজনৈতিক মন্তব্য এবং ধর্মীয় ইস্যুতে বিস্তৃত হয়।
বিরোধী দলের একাধিক সদস্য সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলে মন্তব্য করলে সরকারি দলের সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে সংসদে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবিও ওঠে।
আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ঋণখেলাপি ও ব্যাংক খাতে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ নিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দেশে মন্দ ঋণের পরিমাণ কয়েক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ব্যাংক খাতের সক্ষমতাকে দুর্বল করছে।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া মামলার ভিত্তিতে কাউকে ঋণখেলাপি বলা মানহানিকর হতে পারে এবং এমন বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সংসদে বলেন, ঋণখেলাপি বিষয়ে তথ্য গোপন করা উচিত নয়। তার মতে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিষয়ে সংসদেই আলোচনা হওয়া উচিত এবং জনগণের কাছে তা স্পষ্ট থাকা দরকার।
এরই মধ্যে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদকে এভাবে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা ঠিক নয়।
অধিবেশনের আরেক পর্যায়ে জামায়াত-সম্পর্কিত সংসদ সদস্যদের আবাসন সুবিধা, ওভেন ও ওয়াশিং মেশিন বরাদ্দ এবং পর্দা সংক্রান্ত দাবি নিয়েও বাকবিতণ্ডা হয়। এতে সংসদে দীর্ঘ সময় উত্তেজনা বিরাজ করে।
পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক আলোচনায় ধর্মীয় নেতা মামুনুল হককে নিয়ে মন্তব্য করেন এবং একটি পূর্ববর্তী ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। এতে সংসদে বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি এক্সপাঞ্জ করার দাবি ওঠে।
স্পিকার পরে জানান, অপ্রাসঙ্গিক ও বিতর্কিত কিছু অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।
একই অধিবেশনে বিরোধী দলীয় উপনেতা ও অন্যান্য সদস্যরা বলেন, সংসদে ব্যক্তিগত চরিত্র ও ধর্মীয় ইস্যু না টেনে নীতিগত ও জাতীয় ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
শেষ পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে এসব বিতর্কিত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে বক্তব্য প্রদানে আরও সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন।
অধিবেশন শেষে অর্থনীতি, বাজেট বরাদ্দ, জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, কৃষি সহায়তা এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়, তবে পুরো দিনজুড়েই নানা বিতর্কে সংসদ ছিল উত্তপ্ত।
