২৪ঘণ্টা অনলাইন: ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি ও সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করছে সরকার। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
২১ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করার বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি সম্পাদন, যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) শক্তিশালীকরণ এবং ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের মতো অববাহিকাভুক্ত দেশগুলোর সমন্বয়ে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, উজানের দেশগুলোতে আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি বাস্তব। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক কারণেও উজানে পানির প্রাপ্যতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
সংসদে অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জাতীয় স্বার্থ, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ৯ হাজার ৪৬ কিলোমিটার নদী, খাল, নালা ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী জুন মাসের মধ্যে সারা দেশে ৩৬৬ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী।
