২৪ঘন্টা অনলাইন : চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ক্ষেতে কুমড়ার গাছ ব্যাপকভাবে লতিয়ে পুরো মাঠ ছেয়ে গেছে, দেখতে সবুজ-ঘন ও স্বাস্থ্যবান মনে হলেও বাস্তবে গাছে কাঙ্ক্ষিত ফল ধরেনি। ফলে মৌসুমের শুরুতে যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি জমিতে নেমেছিলেন, তা এখন দুশ্চিন্তায় রূপ নিয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে প্রায় ৩০ শতক জমিতে কৃষক ইসলাম উদ্দীন এই মৌসুমে হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করেন। শুরুতে গাছের বৃদ্ধি দেখে তিনি ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। নিয়মিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে গাছের পরিচর্যা করেন তিনি। কিন্তু ফুল আসার পরও ফল ধরার হার একেবারেই কম, অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রী ফুল ঝরে পড়ে গেছে বলে তিনি জানান। এতে বীজ, সার ও শ্রমের পেছনে করা বিনিয়োগ পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, লতা-পাতার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলেও ফল না ধরার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার বজলুর রহমান জানান, এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে কৃষকদের হাতে-পরাগায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যেখানে সকালে পুরুষ ফুল থেকে পরাগরেণু সংগ্রহ করে সরাসরি স্ত্রী ফুলে প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, ফসফরাস ও পটাশজাত সারের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রত্যয়িত বীজ সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
দামুড়হুদা উপজেলা মিষ্টি কুমড়া চাষের জন্য তুলনামূলকভাবে পরিচিত একটি এলাকা হলেও এ বছর হাইব্রিড জাত নিয়ে এই ধরনের অভিজ্ঞতা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইব্রিড বীজ রোপণের আগে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সঠিক পরিচর্যা পদ্ধতি ও মাত্রা সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া এবং চাষের শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসরণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ রকম ক্ষতির পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায়।
