শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

"স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়েই আসে মাদকের বড় চালান" সংসদে গয়েশ্বর

প্রকাশিত - ২৭ জুন, ২০২৬   ০৯:৩০ পিএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন : জাতীয় সংসদে দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশের মাদকের সবচেয়ে বড় চালান প্রবেশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার আশপাশ দিয়ে, এবং এ নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, "আগে শুনতাম বদী, এখনতো বদী নাই, বদীতো ভয় পেয়ে গেছে গা। এখন ওখানকার দায়িত্বটা কে নিয়েছে? বাড়ির আশেপাশের লোক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তো চেনার কথা। এতদিনে ওইদিক দিয়ে মাদক আসা বন্ধ হওয়া উচিত ছিল।" তিনি আরও বলেন, "আইন দিয়ে কোনো কিছু হয় না, আইন কার্যকর করতে সাহস লাগে, সৎ সাহস লাগে এবং ইচ্ছা লাগে।"

এই বক্তব্যে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উঠে আসে আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদীর প্রসঙ্গ, যিনি দীর্ঘদিন কক্সবাজার অঞ্চলে মাদক-বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আলোচিত ছিলেন এবং বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছেন। গয়েশ্বরের বক্তব্যে প্রশ্ন তোলা হয়, বদীর অনুপস্থিতিতে সেই স্থান এখন কারা পূরণ করছে এবং কেন প্রশাসনিক তদারকি এখনও কার্যকর হয়নি।

বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মাদকাসক্তিকে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি দশ-শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এক সময়ের সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের উদ্বোধন করা এবং বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানের উপস্থিতিতে স্থাপিত নামফলকসমৃদ্ধ সেই হাসপাতালটি এখন সম্পূর্ণভাবে মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, "সেখানে কোনো রোগী, ডাক্তার ও দারোয়ান নেই।" তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানে এলাকার জনসংখ্যা ছয় লাখ দেখানো হলেও বেসরকারি হিসাবে তা পনেরো লাখ ছুঁয়েছে, অথচ এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত একমাত্র হাসপাতালটিও আজ অকার্যকর।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই বক্তব্য সংসদে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদারকি এবং সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রেক্ষাপটে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন