২৪ঘণ্টা অনলাইন:রংপুর মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে নাচনিয়া এলাকার অচল জৈব সার কারখানাকে ঘিরে। প্রায় এক দশক ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য খোলা জায়গায় স্তূপ হয়ে জমছে, ফলে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, পরিবেশবান্ধব উপায়ে নগরীর পচনশীল বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে নাচনিয়া এলাকায় প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি জৈব সার কারখানা নির্মাণ করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ঘাটতি, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতায় প্রকল্পটি কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।
একাধিকবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কারখানাটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। ফলে বর্তমানে কারখানার অবকাঠামো প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
অন্যদিকে রংপুর মহানগরীতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর বড় অংশই সরাসরি কলাবাড়ি-রথবাড়ি এলাকার ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হচ্ছে। সেখানে আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ বা পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার অভাবে খোলা আকাশের নিচে জমছে ময়লার স্তূপ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডাম্পিং স্টেশন থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ, দূষিত তরল বর্জ্য এবং পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে আশপাশের এলাকার জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। কৃষিজমি, জলাশয় ও স্থানীয় পরিবেশও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরীর ভেতরে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক হলেও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত জৈব সার কারখানা চালু এবং আধুনিক ডাম্পিং ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, জৈব সার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
