২৪ঘন্টা অনলাইন : কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৬ জুলাই দিবাগত রাত ৩টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যায়। গভীর রাতে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে একাধিক ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় বেশ কয়েকজন মাটির নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পবাসী উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। পরে খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারী ও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। তাদের পরিচয় হুমায়ারা বেগম ও আনাস বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একই পরিবারের আরও একজন সদস্য নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান কিছু সময় অব্যাহত ছিল।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা বলেন, ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানেও চেষ্টা চালানো হয়েছে।
ক্যাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভারী বর্ষণের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি ঢালগুলো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাস না করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
