শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

আপিলের রায়ে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

প্রকাশিত - ০৯ জুলাই, ২০২৬   ১০:২৮ এএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন : সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে বহুল আলোচিত মামলায় হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান সংবিধানে পুনর্বহাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

৯ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে টানা তিন দিন শুনানি শেষে বুধবার রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়নি।

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র বিকশিত হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনগুলো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

রায়ে আরও বলা হয়, জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল। তাই এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। এ কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

গণভোট বিষয়ে আদালত বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারা বাতিল করে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে।

তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি। রায়ে বলা হয়েছে, বাকি বিধানগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ প্রয়োজন অনুযায়ী জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন