শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

পর্যটন শিল্পে সরকারের মহাপরিকল্পনা

প্রকাশিত - ১৫ জুলাই, ২০২৬   ০৫:৫৪ পিএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন : দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে পর্যটন খাতকে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর আওতায় কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণ, পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৫ জুলাই জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পর্যটন খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই মহাপরিকল্পনার ভিত্তিতে পর্যটন খাতে অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যটন নীতিমালা যুগোপযোগী করতে হালনাগাদের কাজ চলছে। নতুন পর্যটন গন্তব্য চিহ্নিতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যটন করপোরেশনের ১৩২ একরের বেশি জমিতে পিপিপি ভিত্তিতে বিশ্বমানের পর্যটন সুবিধা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোটেল লাবনী এলাকায় আধুনিক পর্যটন ও হসপিটালিটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনায় পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণের প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে। এসব প্রকল্পের বাজার সম্ভাব্যতা ও চাহিদা মূল্যায়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

পর্যটকদের সেবা সহজ করতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরে আধুনিক ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও স্থলবন্দরে তথ্যসমৃদ্ধ ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করা হচ্ছে।

নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইকো-ট্যুরিজম, কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে ব্র্যান্ডিং ও ডিজিটাল প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।

দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে হোটেল ম্যানেজমেন্ট, হসপিটালিটি, শেফ প্রশিক্ষণ, ফ্রন্ট অফিস, হাউসকিপিং ও ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন