শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ১ বছর: ট্রমা কাটেনি শিশুদের

প্রকাশিত - ২১ জুলাই, ২০২৬   ০৮:৫১ এএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন : “আকাশে বিমানের শব্দ শুনলেই সে দুই কান চেপে বিকট চিৎকার দিয়ে ওঠে! পরনের পুড়ে যাওয়া হাতের দিকে তাকিয়ে ১০ বছরের শিশুটি বলে 'আমার হাত তো জম্বির মতো হয়ে গেছে, আমি কেন সেদিন মরে গেলাম না?'”

হ্যাঁ, ঠিক এক বছর আগে উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভেঙে পড়েছিল বিমান বাহিনীর এক প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। ৩৫টি তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই বিভীষিকার আজ এক বছর।

শরীরের দগ্ধ ক্ষত হয়তো শুকিয়েছে, কিন্তু কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কি আদৌ থেমেছে?

সেদিন দুপুর ১টা ১৮ মিনিট। ক্লাসরুমে মাত্র ছুটি হয়েছে। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে উঠলো চারপাশ! ডানা দুটো ছিঁড়ে নিয়ে জ্বলন্ত প্লেনটি সোজা ঢুকে গেল শিশুদের ভবনে। মুহূর্তেই ধোঁয়া, আগুন আর কচি প্রাণগুলোর করুণ আর্তনাদ!

চোখের সামনে সহপাঠীকে পুড়ে ছাই হতে দেখেছিল যে ১০ম শ্রেণির ছাত্রটি, সে আজও রাতে ঘুমাতে পারে না। পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখা শিশু ইউসা এখন আকাশে প্লেন উড়তে দেখলে আতঙ্কে শিউরে ওঠে।

দুর্ঘটনায় আহত ৬৩ জন শিশু ক্লাসে ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের শৈশব আর ফেরেনি। রাতে ঘুমের ঘোরে কেঁদে ওঠা, হুটহাট রেগে যাওয়া আর চরম মানসিক ট্রমায় কাটছে তাদের প্রতিটি দিন।

অথচ এক বছরেও মেলেনি কোনো কার্যকর আর্থিক পুনর্বাসন বা স্থায়ী চিকিৎসা সহায়তা! সাবেক সরকারের দেওয়া ২০ লাখ টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন তুলেছে চার দফা দাবি।

তারা চায় আহতদের আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা, রাষ্ট্রীয় শহীদি মর্যাদা, ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ।

আজ দুর্ঘটনাস্থল সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু যে শিশুরা প্রতিদিন একটু একটু করে মানসিক যন্ত্রণায় মারা যাচ্ছে, তাদের ট্রমা কাটানোর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ কোথায়?

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন