২৪ঘন্টা অনলাইন : চার দিনের বেশি সময় ধরে খোলা ছিল কাপ্তাই বাঁধের সব জলকপাট। অবশেষে কমেছে চাপ। স্বস্তির খবর মিলেছে রাঙামাটি থেকে।
টানা ৪ দিন ১১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট চালু থাকার পর বুধবার রাত ১১টায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়তে থাকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা। বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ১৮ জুলাই সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়।
সেই সময় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছিল।
এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বৃষ্টির তীব্রতা কমেছে। হ্রদের পানিও নেমে এসেছে নিরাপদ সীমায়। তাই সব জলকপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কাপ্তাই কর্তৃপক্ষ।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার সকালে হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩.৩১ ফুট এমএসএল। অথচ বিপদসীমা ১০৮.৫০ ফুট এমএসএল।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু আছে। এগুলো দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি অপসারণ করা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, হ্রদের পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারী বৃষ্টিতে পানি বাড়লে পরিস্থিতি অনুযায়ী আবারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১৯৫৬ সালে। শেষ হয় ১৯৬২ সালে। ১৬টি জলকপাটবিশিষ্ট এই স্পিলওয়ে দিয়ে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা রয়েছে।
