শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

কাঁঠালের বিস্কুটে বদলাচ্ছে বাজার

প্রকাশিত - ০৭ আগস্ট, ২০২৬   ১১:৫৮ এএম
webnews24

২৪ ঘণ্টা অনলাইন : জাতীয় ফল কাঁঠালের অপচয় রোধ এবং এর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন গাজীপুরের এক উদ্যোক্তা। কাঁঠালের রস দিয়ে তৈরি করছেন স্বাস্থ্যসম্মত ‘কাঁঠাল বিস্কুট’, যা ইতোমধ্যেই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনলাইনেও বাড়ছে এর চাহিদা।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীরচালা গ্রামের উদ্যোক্তা আব্দুস ছাত্তার ভুঁইয়া। তার প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মীরা আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন করছেন। স্থানীয় কাঁঠাল চাষিরাও এই উদ্যোগে আশাবাদী। তাদের মতে, কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতের এমন উদ্যোগ বাড়লে ফলের অপচয় কমবে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন।

জানা গেছে, গাজীপুরে প্রতি বছর প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে কাঁঠাল উৎপাদন হয়। এর মধ্যে তিন হাজার হেক্টরেরও বেশি শ্রীপুর উপজেলায়। তবে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যায়।

কারখানার প্রধান কারিগর মানিক মিয়া জানান, পাকা কাঁঠালের কোষ থেকে রস তৈরি করে তার সঙ্গে ঘি, বাটার, দুধ, ময়দা ও অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে বিস্কুট প্রস্তুত করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো কৃত্রিম ফ্লেভার বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। পরে ওভেনে বেকিং শেষে বিস্কুট প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হয়।

অনলাইনভিত্তিক অর্ডারও দিন দিন বাড়ছে। কুরিয়ার কর্মীরা জানান, একবার যারা এই বিস্কুট কিনছেন, তাদের অনেকেই আবার নতুন করে অর্ডার করছেন। ফলে প্রতিদিনই সরবরাহের পরিমাণ বাড়ছে।

কাঁঠাল চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল নষ্ট হয়। এ ধরনের প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি জাতীয় ফলের অপচয়ও অনেকাংশে কমে আসবে।

উদ্যোক্তা আব্দুস ছাত্তার ভুঁইয়া জানান, বিদেশে কাঁঠালভিত্তিক বিভিন্ন খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই উদ্যোগ নেন। ভবিষ্যতে কাঁঠালের চিপসসহ আরও নানা ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতে সরকারি সহায়তা এবং ভ্যাট সুবিধারও দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, কাঁঠাল থেকে বিস্কুট, কেক, কুকিজ, ক্যান্ডি, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব। এসব পণ্যে উচ্চমাত্রার পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং এগুলোর বাণিজ্যিক উৎপাদন একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে কাঁঠালের অপচয় কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন