২৪ ঘণ্টা অনলাইন : বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস কৃষি শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে ৭ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
৭ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া সিলকিবান্ধা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা কৃষি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।
দুপুরে হাসপাতালের মর্গ ও জরুরি বিভাগের সামনে নিহতদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্বামী আবু সাঈদের মরদেহের পাশে বিলাপ করতে করতে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন স্ত্রী রিনা বেগম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নিহতদের স্বজনরা।
নিহত আবু সাঈদ ও আমিরুলের স্বজন সানাউল প্রধান জানান, দুজনই দিনমজুর ছিলেন। পরিবারের ভরণপোষণের পুরো দায়িত্ব ছিল তাদের কাঁধে। কাজের সন্ধানে বের হলেও আর জীবিত ফিরে আসেননি।
নিহত নূর মোহাম্মদের ভাতিজা আল আমিন বলেন, ফজরের নামাজ শেষে কৃষি শ্রমিক নেওয়ার হাটে গিয়েছিলেন তার চাচা। কিছুক্ষণ পরই দুর্ঘটনার খবর আসে।
স্থানীয় শ্রমিকদের ভাষ্য, প্রতিদিন ভোরে গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত কৃষি শ্রমিক এরুলিয়ার কামলার হাটে জড়ো হন। সেখান থেকে জমির মালিকরা প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক নিয়ে যান। নিহতদের বেশিরভাগই দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
নিহতরা হলেন— তাজিমুল (৪৭), বেল্লাল হোসেন, আবু সাঈদ (৪৫), আনারুল (৫৫), আমিরুল (৪০), নূর আলম (৪৫) এবং জমির মালিক নূর মোহাম্মদ (৭৬)।
