২৪ঘণ্টা অনলাইন : প্রাকৃতিক খাবারের সংকট ও আবাসস্থল কমে যাওয়ায় মেহেরপুরের মুজিবনগরের বিভিন্ন এলাকায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বন্য হনুমানের দল। দলবেঁধে ফসলের মাঠ, ফলের বাগান ও বসতবাড়ির আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন ফসল, ফল ও গাছের কচি পাতা-ডাল নষ্ট করায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বাগান মালিকরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হনুমানের আনাগোনা বেড়েছে। আগে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি হনুমান দেখা গেলেও এখন ২০ থেকে ৩০টির দল বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গৌরীনগর, আনন্দবাস, বাগোয়ান, নাজিরাকোনা ও দারিয়াপুর এলাকায় তাদের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হনুমানের দল এক গাছ থেকে অন্য গাছে ছুটে বেড়াচ্ছে। অনেক সময় বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে খাবারের সন্ধানে ফসলের মাঠ ও লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ধানসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি কলা, পেঁপে ও অন্যান্য ফল খাচ্ছে। আম ও লিচু গাছের কচি পাতা ও ডালও ছিঁড়ে ফেলছে তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খাবারের সন্ধানে হনুমান এখন অনেক সময় বসতবাড়িতেও ঢুকে পড়ছে। এতে শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফসল ও ফলের গাছ নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক ও বাগান মালিকরা।
মুজিবনগরের বাসিন্দা আবু হানিফ বলেন, প্রায় এক মাস ধরে হনুমানের দল ফসলের মাঠে ঢুকে নানা ধরনের ফসল নষ্ট করছে। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় হনুমান দেখা গেলেও আগে সংখ্যা কম ছিল। এখন দলবেঁধে আসায় ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে।
মোক্তার মালিথা বলেন, হনুমান আম ও লিচু গাছের কচি পাতা ও ডাল খেয়ে ফেলছে। এতে গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব গাছে এবার ফলন হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
দারিয়াপুরের বাসিন্দা জিন্নাত আলী বলেন, প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে হনুমানের দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা বাড়িতে ঢুকে পড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে শিশুরা ভয় পাচ্ছে। হনুমানের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা গেলে লোকালয়ে তাদের বিচরণ কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাবারের সংকটই হনুমানদের লোকালয়ে চলে আসার অন্যতম কারণ। তাই তাদের তাড়িয়ে না দিয়ে নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি, খাবারের ব্যবস্থা এবং ফসল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মেহেরপুর সামাজিক বন বিভাগের বন সংরক্ষক হামিম হায়দার বলেন, হনুমানের উৎপাতের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে জরিপ চলছে। হনুমান একই জায়গায় অবস্থান না করায় তাদের নিয়মিত খাবার দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, হনুমানের খাবারের জন্য সরকারি কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। ফসল রক্ষায় কৃষকদের সচেতন হতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে হনুমানের খাবারের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে লোকালয়ে হনুমানের বিচরণ আরও বাড়তে পারে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি ফসল ও ফলের বাগানের ক্ষয়ক্ষতিও বাড়বে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও কৃষকদের ক্ষতি কমাতে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
