শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

৯ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা-ময়নাতদন্ত নেই

প্রকাশিত - ১৫ আগস্ট, ২০২৬   ০৮:৪৩ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতদের মধ্যে ৮ জনের মরদেহের ময়নাতদন্তও করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক নেতা, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না আসায় মামলা হয়নি। তবে ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, ৮টি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে একটির ময়নাতদন্ত হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনের পর সেগুলো স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, দুর্ঘটনাজনিত বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ময়নাতদন্ত না হলে পরবর্তীতে মৃত্যুর কারণ ও দায় নির্ধারণে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

শ্রমিক নেতারাও ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের আশ্বাস বা প্রভাবশালীদের চাপের কারণে দ্রুত মরদেহ হস্তান্তর করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষক্রিয়াকেই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বদ্ধ ও গভীর স্থানে শ্রমিকদের পাঠানোর আগে বিষাক্ত বা দাহ্য গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্ঘটনার সময় এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ), শিল্প মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে এর আগেও নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মে ও জুনে নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় গত ১৫ জুলাই চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে মামলাও করা হয়।

গত শুক্রবার সকালে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে পুরোনো একটি জাহাজের বদ্ধ চেম্বারে কাটার কাজের সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন