ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: গত ১২ জুলাই সুন্দরবনে অবমুক্ত হয় এক বাঘিনী। ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে ফেরে চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায়। এক মাস পেরিয়ে গেছে। এখনো তার কোনো সন্ধান নেই। উদ্বেগ বাড়ছে বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও স্থানীয়দের মাঝে।
৩ জানুয়ারি। শরকির খাল এলাকা। হরিণ শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি। আহত হয় গুরুতরভাবে। পরদিনই উদ্ধার করে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল। নিয়ে যাওয়া হয় খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে। বাঁ পায়ের চামড়া, মাংসপেশি, শিরা—সব ক্ষতিগ্রস্ত। দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট। ওজন ৯০ কেজি।
ছয় মাস ধরে চলে চিকিৎসা। ১২ জুলাই দুপুরে অবমুক্তি। উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম নিজে।
নজরদারির জন্য বসানো হয় ২০টি ক্যামেরা। এলাকা—৮ বর্গকিলোমিটার। পরে আরও ২০টি যোগ হয় শ্যালা নদীর পূর্বপার ও জয়মনি এলাকায়। মোট ৪০টি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। এক মাসেও ধরা পড়েনি বাঘিনীর ছবি। উল্টো দেখা মিলেছে তিনটি ভিন্ন বাঘিনীর।
ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরীর ভাষ্য: অবমুক্তির পর দেড়শ মিটার জুড়ে মিলেছিল তার পায়ের ছাপ। তখন হাঁটাচলা ছিল স্বাভাবিক। তার ব্যাখ্যা—একটি বাঘের বিচরণ এলাকা ৩০ থেকে ৪০ বর্গকিলোমিটার। হয়তো নিজের এলাকা বদলে ক্যামেরার বাইরে চলে গেছে সে। আগামী সপ্তাহে ফের বিশ্লেষণ হবে ফুটেজ। নজরদারি চলবে বলেও জানান তিনি।
গায়ে বসানো হয়নি কোনো স্যাটেলাইট বা রেডিও কলার। কারণ—বিদেশ থেকে সংগ্রহে জটিলতা। ফলে ভরসা শুধু ক্যামেরা ট্র্যাপিং। কিছু বন্যপ্রাণী গবেষক তুলেছেন প্রশ্ন। তাদের মতে, কলার ছাড়া অবমুক্তি মানে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল পুরোপুরি মানা হয়নি। ফল—বাঘিনীর প্রকৃত অবস্থা জানার উপায় সীমিত।
দীর্ঘদিন খাঁচাবন্দি ছিল বাঘিনী। বন্য পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারবে কি না—এই প্রশ্ন ছিল শুরু থেকেই। বন বিভাগ বলছে, সে মারা যায়নি। কিন্তু প্রমাণ নেই। ক্যামেরায় নেই তার চিহ্ন। একই এলাকায় ঘুরছে তিনটি অন্য বাঘিনী। ফলে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর বনে বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন সহজ কাজ নয়—এই ঘটনা তারই প্রমাণ। বাঘিনী বেঁচে থাকলে তাকে খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর না থাকলে? প্রশ্ন উঠবে গোটা প্রক্রিয়া নিয়েই।
