শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

ফালানী হত্যা : বান্ধবীর স্বামীসহ দুজন ৪ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত - ২৮ আগস্ট, ২০২৬   ১২:২৪ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : রাজধানীর সবুজবাগে তরুণী ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বান্ধবীর স্বামী মনজুরুল ইসলাম রাব্বী ও তার সহযোগী শাওনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের ভাষ্য, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফেলানীকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে খণ্ডিত করা হয়। ২৭ আগস্ট  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।রাব্বী নিহত ফালানীর বান্ধবী নুসরাত জাহান সাহিদার স্বামী। আর শাওনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সাহিদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার রাতে সবুজবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিদের আইনজীবী খলিলুর রহমান (আসাদ) রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশনের পুলিশের এসআই মমিনুল ইসলাম।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট সবুজবাগের মাদারটেক বাগানবাড়ি এলাকার একটি গরুর খামারের পাশের সেতুর নিচ থেকে একটি মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ছবি দেখে উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো ফালানীর বলে শনাক্ত করেন তার মা-বাবা। ফালানী মুন্সিগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে। তার বয়স ১৯ বছর। দেহাংশ উদ্ধারের দিনই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সবুজবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন এসআই রাশেদুল হাসান।

পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর গত ২১ আগস্ট ফালানীর বান্ধবী সাহিদা, ফারুক, সুজন, মামুন ও বাপ্পিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে রাব্বী ও শাওনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকীর ভাষ্য, ফালানীর সঙ্গে রাব্বীর সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন তার স্ত্রী সাহিদা। ঘটনার দিন রাব্বীর সঙ্গে ফালানীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ক্ষুব্ধ হন সাহিদা। এরপর তিনি ছুরি দিয়ে ফালানীকে আঘাত করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মরদেহ গুম করতে শাওন সহযোগিতা করেন। একপর্যায়ে শাওন ফালানীর মাথা বিচ্ছিন্ন করেন বলে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে আসামিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন