শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে বন অধিদপ্তর ও বিএমডিএর চুক্তি

প্রকাশিত - ২৯ আগস্ট, ২০২৬   ০১:৫৬ পিএম
webnews24
২৪ঘণ্টা অনলাইন

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল ও বরেন্দ্র এলাকায় স্থানীয়ভাবে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারে বন অধিদপ্তর ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই)।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় বৃহস্পতিবার ঢাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এসব চুক্তি সই হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‘বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন পথযাত্রায় জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনের সমন্বয়’ (এসডি পাথওয়েজ) প্রকল্পের আওতায় এ দুটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। প্রকল্পটি গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি-লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ ফান্ড (GEF-LDCF) অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এবং এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউএনডিপি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে জলবায়ুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হলো।

তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের তদারকির সঙ্গে বন অধিদপ্তর ও বিএমডিএর বিশেষায়িত দক্ষতা যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব তুলে ধরে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিবেশব্যবস্থার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এই সমঝোতার আওতায় বন অধিদপ্তর তাদের কারিগরি দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক জলাধার ও পানির প্রবাহব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করবে। পাশাপাশি ভিলেজ কমন ফরেস্ট (ভিসিএফ) পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীকে বন ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হবে।

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে চার দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার কারণে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় বিএমডিএর বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের জন্য জলবায়ু সহনশীল সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা, মাটির অবক্ষয় মোকাবিলা এবং তীব্র খরার ঝুঁকি থেকে কৃষিজীবিকা সুরক্ষায় কাজ করা হবে।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সারদার এম আসাদুজ্জামান বলেন, এই অংশীদারত্ব টেকসই বনায়ন ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সরকারের অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সমন্বয়ের মাধ্যমে পার্বত্য ও বরেন্দ্র অঞ্চলের তাৎক্ষণিক জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি এমন একটি অভিযোজন মডেল তৈরি করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও প্রয়োগ করা সম্ভব।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুটি অংশীদারত্বের আওতায় জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম রাঙামাটি ও নওগাঁ জেলায় পরিচালিত হবে।

রাঙামাটির কাপ্তাই ও বরকল উপজেলায় বন অধিদপ্তর ৯০ হেক্টর ভিলেজ কমন ফরেস্ট এবং ১১৫ হেক্টর কৃষিবনায়ন পুনরুদ্ধারে কাজ করবে। এ কার্যক্রমে ব্যয় হবে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি চলবে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের মে পর্যন্ত।

অন্যদিকে, নওগাঁর খরাপ্রবণ সাপাহার ও মহাদেবপুর উপজেলায় পানি নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করবে বিএমডিএ। এর আওতায় জলবায়ু সহনশীল সেচব্যবস্থা, জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং ৮৫ হেক্টর এলাকায় বনায়ন করা হবে। এ কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে এসডি পাথওয়েজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. খালেদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসডি পাথওয়েজ প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। দেশের জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি কৃষি-পরিবেশগত অঞ্চলে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতা যুক্ত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন