আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে কৃষিতে নামা- শুরুতে সিদ্ধান্তটি তার জন্য ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ। একের পর এক সংকট, দেউলিয়া হওয়ার শঙ্কা এবং পরিবারের বিরোধিতা- সবকিছু পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভারতের শশী কুমার। বর্তমানে তার কৃষিভিত্তিক ব্যবসার বার্ষিক আয় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিকাশ নামের এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে শশী কুমারের জীবনের এই সংগ্রামের গল্প শেয়ার করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শশী কুমার প্রায় ১২ বছর যুক্তরাষ্ট্রে উইপ্রোর মতো প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চাকরি করেছেন। সেখানে ভালো বেতন ও আরামদায়ক কর্মজীবন থাকলেও একসময় তিনি চাকরি ছেড়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।
তবে কৃষিতে নামার সিদ্ধান্ত মোটেও সহজ ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বিকাশ দাবি করেন, ব্যবসার শুরুর দিকে শশী কুমার প্রায় ১০ বার দেউলিয়া হওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের উদ্যোগ চালিয়ে যান।
ধীরে ধীরে তার সেই সংগ্রামরত কৃষি উদ্যোগই বড় ব্যবসায় পরিণত হয়। কঠোর পরিশ্রম ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় তিনি কৃষিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
শুধু ব্যবসায়িক নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে শশীকে। যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি ছেড়ে কৃষিতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তার বাবা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে বলা হয়, বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধের কারণে প্রায় আট বছর তাদের মধ্যে কথা হয়নি।
শশীর বাবা নিজেও কৃষিকাজ করতেন। ছেলে যেন তার মতো একই পেশায় না আসেন- এটাই ছিল তার বাবার প্রত্যাশা। কিন্তু বাবার আপত্তি ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শশী নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
আজ সেই সিদ্ধান্তই তাকে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে। আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে কৃষিকে বেছে নিয়ে ব্যর্থতার ঝুঁকি মোকাবিলা করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর শশী কুমারের গল্প এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
