শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

সুস্থতা আল্লাহর বড় নিয়ামত

প্রকাশিত - ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬   ০৯:৫৬ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : জীবনে নানা অভাব, দুঃখ, প্রতারণা কিংবা কারও বৈষম্যমূলক আচরণে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এসব হতাশার মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় তার জীবনে থাকা অসংখ্য নিয়ামতের কথা ভুলে যায়। অথচ মহান আল্লাহ প্রতিনিয়ত মানুষকে অসংখ্য নেয়ামতে ঘিরে রেখেছেন।

একজন মানুষের পকেটে টাকা না থাকলেও সে যদি সুস্থ-সবল থাকে, তাহলে প্রকৃত অর্থে সে অমূল্য সম্পদের অধিকারী। তাই আল্লাহর দেওয়া সুস্থতার মতো নিয়ামতের জন্য মুমিনের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামত এমন আছে, যার ব্যাপারে বেশির ভাগ মানুষ উদাসীন থাকে—সুস্থতা ও অবসর সময়।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

বাস্তবে শরীরের কোনো অঙ্গে সমস্যা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা সুস্থতার গুরুত্ব অনেক সময় বুঝতে পারি না। সামান্য অসুস্থতাও কখনো একজন মানুষকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল করে দিতে পারে। তখন দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানেই উপলব্ধি হয়, সুস্থতা কত বড় নিয়ামত।

মানবদেহের দিকে তাকালেও আল্লাহর অসীম নিয়ামতের বিষয়টি বোঝা যায়। মানুষের মস্তিষ্কে রয়েছে বিপুলসংখ্যক নিউরন, আর হৃৎপিণ্ড সারাজীবনে অবিরাম রক্ত সঞ্চালন করে শরীরকে সচল রাখে। অথচ এসব অমূল্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য মানুষকে কোনো মূল্য দিতে হয়নি।

মানুষ সারাজীবন ইবাদতে কাটিয়ে দিলেও আল্লাহর একটি নিয়ামতের পূর্ণ শোকর আদায় করা সম্ভব নয়। তারপরও মুমিনের দায়িত্ব হলো সুখে-দুঃখে সব অবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সত্যিকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি তোমাদের আরো বেশি দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে জেনে রেখো আমার শাস্তি অতি কঠিন।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত : ৭)

মুমিনের জীবনে সুখ যেমন কল্যাণ বয়ে আনে, তেমনি দুঃখ-কষ্টও তার জন্য কল্যাণের কারণ হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের অবস্থা বিস্ময়কর। সব কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কেউ এ বৈশিষ্ট্য লাভ করতে পারে না। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শোকর আদায় করে আর অসচ্ছলতা বা দুঃখ-মুসিবতে আক্রান্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে, প্রতিটিই তার জন্য কল্যাণকর।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৯০)

অর্থাৎ সুখের সময়ে শোকর এবং বিপদে ধৈর্য—দুই অবস্থাতেই মুমিনের জন্য কল্যাণ রয়েছে। তাই জীবনের ছোটখাটো অপ্রাপ্তি কিংবা অভাব-অনটনে হতাশ না হয়ে আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা স্মরণ করা উচিত।

শারীরিক সুস্থতা, নিরাপদ জীবন ও স্বাভাবিকভাবে দৈনন্দিন কাজ করতে পারাও বড় নিয়ামত। এসবের মূল্য অনেক সময় বিপদে পড়ার পরই উপলব্ধি হয়। তাই অভিযোগের বদলে আল্লাহর শোকর করা এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করাই মুমিনের জন্য উত্তম।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সর্বাবস্থায় তাঁর নিয়ামতের শোকর আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন