শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

নায়িকার দেখা পেতে উত্তমের অনুরোধ

প্রকাশিত - ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬   ০২:৪৩ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : মহানায়ক উত্তম কুমারের জীবনের নানা অজানা গল্প আজও বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আগ্রহের বিষয়। এমনই এক ঘটনা স্মৃতিচারণ করেছেন নির্মাতা পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়। একসময় উত্তম কুমার নিজেই তার কাছে অনুরোধ করেছিলেন অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার জন্য।

১৯৬৪ সালে তপন সিনহার ‘জতুগৃহ’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সময় উত্তম কুমারের সঙ্গে পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচয় হয়। পরে উত্তমের সঙ্গে আরও কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেন তিনি।

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পলাশ সেই সময়ের একটি ঘটনা তুলে ধরেন।

ঘটনাটি ১৯৬৭ সালের ‘হাটে বাজারে’ সিনেমাকে ঘিরে। তপন সিনহার পরিচালনায় ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য অশোক কুমার ও বৈজয়ন্তীমালাকে নির্বাচন করা হয়েছিল। একদিন ‘নিউ থিয়েটার্স’-এর দুই নম্বর স্টুডিওতে ছবির চিত্রনাট্য শোনার জন্য আসেন বৈজয়ন্তীমালা।

চিত্রনাট্য পাঠের সময় তপন সিনহার অফিসে পরিচালক ও বৈজয়ন্তীমালা ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের অনুমতি ছিল না। তাই পলাশসহ অন্য সহকারীরা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।

এর মধ্যেই সেখানে হাজির হন উত্তম কুমার। সহকর্মীদের সিগারেট দেওয়ার পর তিনি পলাশকে আলাদা করে ডেকে নেন। এরপর জানান, বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে তার জরুরি কথা আছে। কিন্তু স্ক্রিপ্ট রিডিং চলায় তপন সিনহার অফিসে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

পলাশের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, উত্তম কুমার তখন তাকে অনুরোধ করে বলেন, ‘পলাশ, প্লিজ, না বোলো না।’ মহানায়কের এমন অনুরোধে অবাক হয়ে যান তিনি।

শেষ পর্যন্ত সাহস করে তপন সিনহার অফিসের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পলাশ জানান, উত্তম কুমার বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে দেখা করতে চান। বৈজয়ন্তীমালা বিষয়টি শুনে উত্তমকে ভেতরে আসতে বলেন।

উত্তম কুমার অফিসে ঢোকার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাইরে অপেক্ষা করতে থাকা পলাশসহ অন্যদের মধ্যে তখন কৌতূহল তৈরি হয়—কী এমন প্রয়োজন যে মহানায়ক এভাবে বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন?

পরদিন জানা যায় ঘটনার আসল কারণ।

সে সময় উত্তম কুমার নিজেই প্রযোজক হিসেবে হিন্দি সিনেমা ‘ছোটি সি মুলাকাত’ নির্মাণ করছিলেন। ছবিটির নায়িকা ছিলেন বৈজয়ন্তীমালা। নতুন প্রযোজক হিসেবে সিনেমাটিতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন উত্তম। কিন্তু নানা জটিলতায় বৈজয়ন্তীমালার শিডিউল অনুযায়ী শুটিং শুরু করতে পারেননি তিনি।

এতে বৈজয়ন্তীমালা কিছুটা বিরক্ত হয়ে ছবিটির জন্য আর নতুন শিডিউল দিতে চাইছিলেন না। ফলে সিনেমাটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান উত্তম কুমার। সেই পরিস্থিতিতেই বৈজয়ন্তীমালাকে বোঝাতে এবং তার সঙ্গে কথা বলতেই ‘হাটে বাজারে’র স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ের সময় তপন সিনহার অফিসে ছুটে গিয়েছিলেন মহানায়ক।

পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে তাই ঘটনাটি শুধু একজন কিংবদন্তি অভিনেতার তারকাখ্যাতির গল্প নয়, বরং প্রযোজক হিসেবে উত্তম কুমারের এক কঠিন সময়েরও স্মারক হয়ে আছে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন