২৪ঘণ্টা অনলাইন : তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং সিড মানি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ট্রেডে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিড মানি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার জন্য দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সেন্টার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শিশু অধিকার সুরক্ষায়ও বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।
বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রতি পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পাওয়া অর্থ পরিবারে পুষ্টিকর খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সঞ্চয়ের মতো কাজে ব্যয় করা যাবে।
বাংলাদেশে দক্ষ কেয়ার গিভারের বৈশ্বিক চাহিদার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি এবং বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে নরওয়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ ছাড়া গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নরওয়েসহ ইউরোপের বাজারে রপ্তানি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশি নারীদের অবদানের প্রশংসা করে দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহায়তা চাইলে রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
