২৪ঘণ্টা অনলাইন : চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বড় স্টেশন মাছঘাটে এখন আর আগের মতো ইলিশের সরবরাহ নেই। একসময় মৌসুমে যেখানে হাজার হাজার মণ মাছ কেনাবেচা হতো, সেখানে এখন মাছের সংকটে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও ক্রেতা—সবাই বিপাকে পড়েছেন।
ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ব্রিটিশ আমলে ডাকাতিয়া নদীর তীরে গড়ে ওঠে চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাট। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার ইলিশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে। মাছের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঘাটটি।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় ঘাটটির সেই ব্যস্ততা আর নেই। ব্যবসায়ীদের দাবি, মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেক আড়তদার লোকসানে পড়েছেন। কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ঘাটের সঙ্গে যুক্ত বহু শ্রমিক। একই সঙ্গে মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারাও ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীর নাব্য সংকট, ডুবোচর, দূষণ এবং অবৈধ জালের কারণে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ কমছে। ইলিশ রক্ষায় অবৈধ কারেন্ট জাল বন্ধ ও অভিযান আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, ইলিশের মূল মৌসুম চললেও ঘাটে মাছের সরবরাহ খুবই কম। নদী দূষণ, নাব্য সংকট ও ডুবোচরের পাশাপাশি ইলিশ রক্ষা অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক কারণ, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়া, নদীর নাব্য সংকট, ডুবোচর ও দূষণের প্রভাবেও ইলিশের সরবরাহ কমেছে। নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে একটি কারিগরি দল কাজ করছে।
তিনি জানান, আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া, পর্যাপ্ত অর্থ ও জনবল না থাকা এবং স্পিডবোট চালকের সংকটের কারণে অভিযান পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
মৎস্য বিভাগ বলছে, প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া গেলে ইলিশ রক্ষার অভিযান আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী মাছঘাট আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
