শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

অভিনয়ের বৈচিত্র্যে অনন্য এটিএম শামসুজ্জামান

প্রকাশিত - ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬   ০৪:৫৯ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: বাংলা চলচ্চিত্রে এমন কিছু শিল্পী আছেন, যাদের অভিনয় সময় পেরিয়েও দর্শকের মনে অমলিন থাকে। এটিএম শামসুজ্জামান ছিলেন তেমনই এক কিংবদন্তি। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র—যে ভূমিকাতেই অভিনয় করেছেন, নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী ও সংলাপ উপস্থাপনের মাধ্যমে চরিত্রকে করে তুলেছেন স্মরণীয়।

আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই বরেণ্য অভিনেতার জন্মদিন। বিশেষ দিনে ফিরে দেখা যাক তার বর্ণিল চলচ্চিত্রজীবন।

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। চলচ্চিত্রে তিনি পরিচিতি পান এটিএম শামসুজ্জামান নামে। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের ভোলাকোটের বড়বাড়িতে।

শিক্ষাজীবনে ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন তিনি। পগোজ স্কুলে তার সহপাঠী ছিলেন আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র। পরে ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন।

১৯৬৫ সালে ‘নয়া জিন্দগানী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হলেও ছবিটি মুক্তি পায়নি। এরপর ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘এতটুকু আশা’ ছবিতে খবরের কাগজ বিক্রেতার চরিত্রে প্রথমবার পর্দায় দেখা যায় তাকে।

অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখাতেও দক্ষতা দেখিয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান। ১৯৭১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তিনি। ছবিটির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় অভিনেতা ফারুকের।

‘ওরা ১১ জন’, ‘লালন ফকির’, ‘লাঠিয়াল’ ও ‘নয়নমণি’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে খলনায়কের চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। একইসঙ্গে কৌতুক চরিত্রেও অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।

১৯৮৭ সালে নিজের লেখা কাহিনির ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এটিএম শামসুজ্জামান। পরবর্তী সময়ে ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’ ও ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন।

২০০৫ সালে ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রে মকবুল চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি। একই বছর ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’ ছবিতে গাজী এবাদত মোল্লা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ব্যাপক ভালোবাসা পান।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন এটিএম শামসুজ্জামান। ২০০৯ সালে শাবনূর ও রিয়াজ অভিনীত ‘এবাদত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। পরে ‘গেরিলা’ ও ‘চোরাবালি’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আবারও প্রশংসিত হন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেও এটিএম শামসুজ্জামানের সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক এক শিল্পী। তার অভিনয়ের নিজস্ব ভঙ্গি, সংলাপ বলার ধরন ও চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা বাংলা চলচ্চিত্রে তাকে দিয়েছে অনন্য এক অবস্থান।

২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তবে তার অভিনয় ও সৃষ্টিকর্ম আজও দর্শকের মনে তাকে জীবন্ত করে রেখেছে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন