শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটে তিন মাসের সর্বনিম্নে পুঁজিবাজার

প্রকাশিত - ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬   ০৭:০৫ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, ব্যয় বৃদ্ধি এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয়-মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)।

৬ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই ডিএসইর সূচক কমেছে। সপ্তাহ শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে নেমেছে। এটি গত তিন মাসের মধ্যে সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কারখানা সাময়িক বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবার উৎপাদন চালু রাখতে বিকল্প জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। এতে কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

একটি শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন কমেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছে। বাজারের অনিশ্চয়তা, দুর্বল ক্রয়চাহিদা এবং স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ সমন্বয়ের কারণে দরপতন আরও তীব্র হয়েছে।

সপ্তাহের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাজার। ৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইএক্স এক দিনে ১০০ পয়েন্টের বেশি কমে যায়। এ সময় ব্রোকাররা আতঙ্কজনিত বিক্রির পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকেও দরপতনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক করে ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বৈঠকে সাম্প্রতিক দরপতন এবং বাজার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানসহ বাজারসংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় ইবিএল সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট, কোম্পানির আয় নিয়ে দুর্বল প্রত্যাশা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান বাজারে চাপ তৈরি করেছে। কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনার চেষ্টা করলেও সামগ্রিক অনিশ্চয়তার কারণে ক্রয়চাহিদা ছিল দুর্বল।

তবে বাজারের এই নেতিবাচক প্রবণতার মধ্যেও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তুলনামূলক ভালো চাহিদা দেখা গেছে। স্বল্পমেয়াদি মুনাফার আশায় কিছু বিনিয়োগকারী এ খাতে ঝুঁকেছেন বলে জানিয়েছে ইবিএল সিকিউরিটিজ।

ডিএসইর অন্যান্য সূচকও সপ্তাহে কমেছে। ডিএস৩০ সূচক ৪৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৫ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস সূচক ৩৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বড় মূলধনের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দরপতনও ডিএসইএক্সের পতনে বড় ভূমিকা রেখেছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারের দরপতনে সূচকটি ২৫ পয়েন্টের বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

লেনদেনও কমেছে। সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। ফলে দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ৯ শতাংশ কমে ৫৫৪ কোটি টাকায় নেমেছে।

মোট লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বস্ত্র খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। এরপর সাধারণ বিমা ১৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত ১০ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রেখেছে।

সপ্তাহে ডিএসইতে ৩১০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৬০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির দর।

প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। একমাত্র মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সূচক ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪ শতাংশ কমেছে এনবিএফআই খাতের সূচক। এ ছাড়া প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ ও রসায়ন, টেলিযোগাযোগ এবং ব্যাংক খাতেও উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে।

সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে। কোম্পানিটির ১১৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এরপর ছিল এনভয় টেক্সটাইলস, মালেক স্পিনিং মিলস, সাইহাম কটন মিলস ও সাইহাম টেক্সটাইল।

ঢাকার বাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দরপতন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩০৬ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮৬৬ পয়েন্টে এবং নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স ১৯১ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৭৩ পয়েন্টে নেমেছে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন