২৪ঘণ্টা অনলাইন: দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো নদীপাড়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, নৌকা বাইচ বাংলার ঐতিহ্যের অংশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাওর অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে নৌকা বাইচের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি আনন্দিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তি ও আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৌকা বাইচের আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্য ধরে রাখার আগ্রহের প্রকাশ ঘটেছে।
দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মোট ১০টি নৌকা। নির্ধারিত পথে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মাঝিমাল্লারা ঐক্যবদ্ধভাবে বৈঠা চালিয়ে নিজেদের নৌকাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ক্ষমতাপুরের শাপলা বয়েজ ক্লাব। দ্বিতীয় হয় সদর উপজেলার মজলিশপুরের জয়নাল আবেদিন ও জিল্লুর রহমানের নৌকা। তৃতীয় স্থান অর্জন করে নবীনগর উপজেলা থেকে অংশ নেওয়া ‘ফইল’।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ট্রফি ও মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম স্থান অর্জনকারী দল পায় ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় দল ১ লাখ ৫০ হাজার এবং তৃতীয় দল পায় ১ লাখ টাকা।
দীর্ঘদিন পর তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। দর্শনার্থী সোহেল ও শামীম আহমেদ বলেন, অনেকদিন পর তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ দেখতে পেরে তারা আনন্দিত। ভবিষ্যতে প্রতিবছর এ আয়োজন করার প্রত্যাশা জানান তারা।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মাঝি আরমান ও বাদল মিয়াও দীর্ঘ বিরতির পর নৌকা বাইচে অংশ নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব।
