শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

আমদানি কমিয়ে কৃষি উৎপাদনে জোর প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত - ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬   ১২:৩৮ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও কৃষিযান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

১৩ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকেও নজর দিতে হবে।

বৈঠকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে সরিষার উৎপাদন ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টন।

পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকের পর্যায়ে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল নতুন জাতের ফসল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত রয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

কৃষিতে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো যন্ত্র কৃষকদের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

বৈঠকে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচব্যয় এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আলোচনা হয়।

কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ ছাড়া কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে। এজন্য কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন