২৪ঘণ্টা অনলাইন : বাবা ছিলেন পরিচালক। এক সময় মুম্বইয়ের চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত সেই পরিবারেরও ছিল নিজের ছাদ। কিন্তু ছবির জন্য অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে এক সময় সেই সব হারাতে হয়েছিল। তবু একটা স্বপ্ন আঁকড়ে ছিলেন রুপালি গঙ্গোপাধ্যায়ের বাবা, পরিচালক অনিল গঙ্গোপাধ্যায়।
বহু বছর পর বাবার সেই স্বপ্নই মেয়ের হাত ধরে পূরণ হয়েছিল। সেই স্মৃতি বলতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না অভিনেত্রী। মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে নিজের পরিবারের কঠিন সময়ের কথা বলছিলেন রুপালি। তাঁর কথায়, সেই সময়ে কর্পোরেট প্রযোজনার চল এতটা ছিল না। অনেক পরিচালককেই ছবি তৈরির টাকা জোগাড় করতে নিজেদের সম্পত্তি পর্যন্ত বিক্রি করতে হত। তাঁদের পরিবারও এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল। এক সময় প্রায় সব কিছুই হারিয়ে যায়।
কিন্তু বাবার স্বপ্নটা হারায়নি। মুম্বইয়ে নিজের একটা বাড়ি তৈরি করবেন, এই ইচ্ছেটাই ছিল অনিলের মনে। রুপালির কথায়, পরিচালকের মেয়ে হওয়ার কারণে বাইরে থেকে হয়তো তাঁর জীবনটাকে সহজ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাবার পরিচয়ের বাইরে নিজের একটা জায়গা তৈরি করার তাগিদও ছিল তাঁর। পাশাপাশি বাবার সেই অপূর্ণ ইচ্ছেটা পূরণ করতে চেয়েছিলেন তিনি।
তার পর শুরু হয় ‘অনুপমা’ ধারাবাহিকের যাত্রা। ধারাবাহিকটি রুপালির জীবনে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, এনে দিল সেই সুযোগও। নিজের প্রথম বাড়ি কেনার কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি অভিনেত্রী। তাঁর কাছে সেই বাড়ি যেন শুধু সম্পত্তি নয়, বাবার বহু দিনের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক আবেগের নাম।
সেই সময়ের রুপালির লড়াইয়ের কথাও মনে করিয়ে দেন ‘অনুপমা’-র প্রযোজক। জানান, তাঁদের প্রথম ধারাবাহিকে কাজ পাওয়ার আগে রুপালিকে একাধিক বার অডিশন দিতে হয়েছিল। তিন বার অডিশন দেওয়ার পরেও তাঁকে প্রথমে নির্বাচন করেননি। কিন্তু হাল ছাড়েননি অভিনেত্রী। আরও এক বার সুযোগ চেয়েছিলেন।
এক সময় বাবার স্বপ্ন, নিজের লড়াই আর ‘নেপো কিড’ তকমা— সব মিলিয়ে যে পথটা সহজ ছিল না, সেই পথ পেরিয়েই আজ নিজের পরিচয়ে দাঁড়িয়ে রুপালি। আর মুম্বইয়ের সেই বাড়ি? তাঁর কাছে সেটি যেন বাবাকে দেওয়া এক প্রতিশ্রুতি পূরণের গল্প।
সূত্র : আনন্দবাজার
