২৪ঘণ্টা অনলাইন: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দ্রুত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সই, কোরীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থান এবং প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ দ্রুত সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
কৃষি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবা খাতেও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় বাংলাদেশি দক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ চাওয়া হয়।
জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে কোরিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান হুমায়ুন কবির। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা এবং তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার জন্য কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের প্রশিক্ষণে কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষায়িত সামরিক কোর্সে কোরিয়ার সদস্যদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা জানিয়ে এ খাতে কোরীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির।
কোরীয় পক্ষও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তুতির কথা জানায়।
