শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশে ইবোলা ভাইরাসের ঝুঁকি নেই প্রস্তুতি

প্রকাশিত - ০৪ অক্টোবর, ২০২৬   ০৩:০৮ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা টিভি অনলাইন : আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে শ্রমিক অভিবাসন ও শান্তিরক্ষা মিশন বাংলাদেশে চলমান। তাই বাংলাদেশকে ঝুঁকির আওতায় রেখেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।

গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। সংস্থাটি সদস্য দেশগুলোকে নজরদারি ও প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানায়। ইবোলা নিয়ে এমন ঘোষণা এটি তৃতীয়বার। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৯ সালে একই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবোলা পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সুপারিশ করা বায়োসেফটি লেভেল-৪ (বিএসএল-৪) মানের কোনো ল্যাবরেটরি বাংলাদেশে নেই। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ল্যাব বিএসএল-২ মানের। বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশে এখন ইবোলা পরীক্ষার কোনো রি-এজেন্ট নেই। আইইডিসিআর ডব্লিউএইচওর কাছে রি-এজেন্ট চেয়েছে। 

ইবোলা রোগীর চিকিৎসার জন্য সংক্রামক রোগ হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালকে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সন্দেহভাজন রোগী এলে তা সামলানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি এখনো আসলে হাসপাতালগুলোর নেই। 

বিমানবন্দরেও নজরদারি শুরু হয়নি। জানাগেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ এর তথ্য অনুযায়ি ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দরগুলোর জন্য নির্দেশনা তৈরির কাজ চলছে।

প্রশ্ন হলো কেন আমাদের ইবোলা ভাইরাস নিয়ে এত জল্পনা কল্পনা তার কারন হলো-
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। ২ অক্টোবর  শুক্রবার দেশপির প্রধান জানায়, ১৫ মে থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ইবোলায় মারা গেছেন ৪ হাজার ১৮ জন। সাতটি প্রদেশে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজারের বেশি রোগী। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইবোলা কোনো বায়ুবাহিত রোগ নয়, অর্থাৎ এটি হাঁচি-কাশি বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। আফ্রিকার ফলভোজী বাদুড়, বানর ও অ্যান্টিলোপের মতো আক্রান্ত বন্য পশুর মাংস খেলে বা এদের সংস্পর্শে এলে মানুষ সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের কোনো তরল পদার্থ (যেমন—রক্ত, বমি, লালা, প্রস্রাব, পায়খানা, ঘাম ও বুকের দুধ) সুস্থ মানুষের শরীরের সংস্পর্শে এলে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্যের মাধ্যমে যোনিপথ, মুখ বা পায়ুসংগম—সব পথেই ইবোলা ছড়াতে পারে। আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত সুচ, সিরিঞ্জ, বিছানা বা কাপড়ের মাধ্যমেও অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।

কঙ্গো ও উগান্ডা ছাড়াও অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া ও জাম্বিয়াকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

আমাদের প্রতিবেশী ভারত ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বিমানবন্দরে হেলথ ডেস্ক বসিয়ে থার্মাল স্ক্রিনিং চলছে।

সুতরাং বাংলাদেশেরও সময়োচিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছের বিশেষজ্ঞ মহল।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন