বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনে মাথার ওপর ঝুলছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। ঝুঁকি এড়াতে বাধ্য হয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী মাথায় হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ প্রতিদিন জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এই ভবনে আসেন শতাধিক মানুষ।
সর্বশেষ গত রোববার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী আয়া সবিতা রানীর মাথায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে তিনি আহত হন। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১ নম্বর বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা উঠে গেছে। কোথাও ছাদে ফাটল, আবার কোথাও ঝুলে আছে পলেস্তারা। ভবনের হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলোতেও রয়েছে একই অবস্থা। এসব স্থানে প্রতিদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা মানুষের ভিড় থাকে।
দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পরিষদের কয়েকজন কর্মীকে হেলমেট পরে কাজ করতে দেখা যায়। তবে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভবনের ভেতরে প্রবেশের সময় কোনো ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে না।
সেবা নিতে আসা প্রসেনজিৎ বলেন, ‘বিভিন্ন কাজে ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হয়। কিন্তু ভবনের ছাদ ও দেয়ালের অবস্থা দেখে ভেতরে ঢুকতেই ভয় লাগে। কখন মাথার ওপর পলেস্তারা খসে পড়ে, সেই আতঙ্ক থাকে। দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা দরকার।’
আতিয়ার রহমান নামের আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘সরকারি সেবা নিতে এসে যদি দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, তাহলে বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেলমেট পরে কাজ করতে হচ্ছে—এটাই ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বড় প্রমাণ।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হামিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটির এমন অবস্থা। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালেও ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ এখানে আসেন। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বলেন, ‘ভবনের কোনো কক্ষই নিরাপদ নয়। হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রতিদিন মানুষ সেবা নিতে আসেন। পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহতও হয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, জায়গা স্বল্পতার কারণে বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
