শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

সিসিটিভি ফুটেজে তাজমিনের শেষ চলাচল

প্রকাশিত - ০৯ অক্টোবর, ২০২৬   ০১:১৫ পিএম
webnews24

‎২৪ঘণ্টা অনলাইন: কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। মৃত্যুর আগের রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় তার চলাচলের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত পরীক্ষা করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।

৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা আবদুল আলীম।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে করে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে তাজমিন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে হোটেলের পাশের খাবারের দোকান ও পশ্চিম দিকের কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যেতে দেখা যায়।

একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। এ সময় দোকানিকে তাজমিনকে কিছু দেখাতে বা কোনো দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায় বলে ফুটেজ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর সে কোন পথে গিয়েছিল, কারও সঙ্গে দেখা হয়েছিল কি না কিংবা কীভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির আলামত: লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের নির্জন সড়কের দুই পাশে বিস্তৃত ধানক্ষেত। ঘটনাস্থলের অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশে পড়ে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। কাছাকাছি একটি ভ্যানিটি ব্যাগও দেখতে পান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে গাড়িটির কাছাকাছি ব্যাগ দেখতে পান। আশপাশের ধানক্ষেতে এলোমেলো ধানগাছ দেখে সামনে এগিয়ে গেলে একটি নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে সেখানে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

বাবাকে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন: নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয় তাজমিন। পরে সে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। বুধবার সেখান থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয়।

রাতে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোনে সাড়া পাননি তিনি। পরে রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে তাজমিন মোবাইল ফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে।

আবদুল আলীম বলেন, রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পারেননি তিনি। সকালে বার্তা দেখে মেয়ের পাঠানো লোকেশনে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।

হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল: পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাজমিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লায় আসার পর সে কক্সবাজারে যায়। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে যাত্রাপথে তার সঙ্গে কেউ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তাজমিনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তা নিশ্চিত হয়। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ ফেরদৌস জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। সেটির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে বলে জানান তিনি।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সঙ্গে সে রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত।

তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ, অটোরিকশা ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
২৪ঘণ্টা অনলাইন : ‎মোংলায় এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রায় দুই মাস পর দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইকরামুল শেখ (৪০) ও মীর আলী (৪৮)। পুলিশের...