২৪ঘণ্টা অনলাইন : চট্টগ্রামে থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওআয়োডিন ক্যাপসুলের সংকট দেখা দিয়েছে। গত এক মাস ধরে সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় থেরাপি নিতে পারছেন না অনেক রোগী। এতে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
থাইরয়েড ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের পর রোগের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী রেডিওআয়োডিন থেরাপি দেওয়া হয়। এ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্যাপসুলটি বাংলাদেশে পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। বেসরকারিভাবে এটি বিপণনের অনুমোদন নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রামের ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৪ জন রোগী থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা নেন। ক্যাপসুলের সংকটের কারণে অস্ত্রোপচার করা রোগীদের আপাতত ওষুধের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ক্যাপসুলটির সংকট চলছে। এরই মধ্যে ওষুধ সংগ্রহের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই ক্যাপসুল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিভাগে প্রতি মাসে গড়ে চার থেকে ছয়টি থাইরয়েড ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগের ধরন অনুযায়ী রেডিওআয়োডিন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালটির নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতে এই থেরাপি দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় থেরাপি পেতে দেরি হলে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত ফলোআপ ও সময়মতো চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেডিওআয়োডিন থেরাপিতে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন-১৩১ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ধরনের থাইরয়েড ক্যান্সারের অবশিষ্ট কোষ ধ্বংস করা হয়। তবে সব ধরনের থাইরয়েড ক্যান্সারে এ চিকিৎসা কার্যকর নয়। রোগের ধরন ও পর্যায় বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা থেরাপির সিদ্ধান্ত নেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে দ্রুত ক্যাপসুলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি।
