পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্তমানে এটি ১৫.৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪.৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। সেইসঙ্গে এটি বাংলাদেশের বন্দরগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-১১ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবহাওয়া অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-১০ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রলয়ঙ্করী এই ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বর্তমানে খুবই বিক্ষুব্ধ অবস্থায় রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
