বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত - ২৮ অক্টোবর, ২০২৬   ১০:২১ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বকনিষ্ঠ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দলই সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন তিনি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্ম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে দলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলের অভিযানে অংশ নেন তিনি।

২৮ অক্টোবর ভোররাতে লেফটেন্যান্ট কাইয়ুমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানে আক্রমণ চালায়। এ সময় শত্রুপক্ষের মেশিনগানের তীব্র গুলিবর্ষণে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেশিনগান পোস্টটি ধ্বংস করার দায়িত্ব দেওয়া হয় হামিদুর রহমানকে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি খাল দিয়ে এগিয়ে গিয়ে তিনি পাকিস্তানি সেনাদের মেশিনগান পোস্টে দুটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। এতে পোস্টটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়ও শত্রু সেনাদের সঙ্গে লড়াই করেন তিনি। তার বীরত্বপূর্ণ অভিযানের ফলে মুক্তিযোদ্ধারা দলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলে সফল হন। তবে সেই বিজয় দেখে যেতে পারেননি হামিদুর রহমান।

শহীদ হওয়ার পর তাকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমেরছড়া গ্রামের একটি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দীর্ঘদিন পর ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর তার দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ হামিদুর রহমানকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, বিজিবি ও কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দলই সীমান্তে অবস্থিত তার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি রয়েছে।

দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
একই সঙ্গে তিনি জাতীয় উন্নয়নে তারেক রহমান সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক দেশটির কার্যালয় ‘কান্তেই’তে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ, বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা, ছয়টি বিভাগীয় শহরে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক ও উড়াল সড়ক নির্মাণে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া বৈঠকে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বেসরকারি বিনিয়োগের আলোচনা, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।